এক গ্রামে ছিলেন হাবুল মিয়া। তাঁর মতো ভুলোমনা মানুষ এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি পাওয়া ভার। চশমা চোখে দিয়েই সারা ঘর চশমা খুঁজে বেড়ানো তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস।
একদিন সকালবেলা হাবুল মিয়া তাঁর প্রিয় লাল গরুটিকে নিয়ে হাটে যাচ্ছেন বিক্রি করতে। কিছু দূর যাওয়ার পর গ্রামের এক দুষ্টু ছেলে বাবলু চুপিচুপি এসে গরুর দড়িটা কেটে দিল, আর গরুর গলায় বাঁধা ঘণ্টিটা খুলে নিজের ছাগলের গলায় বেঁধে হাবুল মিয়ার পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগল।
হাবুল মিয়া আপন মনে হেঁটে যাচ্ছেন আর ভাবছেন, “গরু বিক্রি করে আজ তো মেলা টাকা পাব!” পেছনে ঢং ঢং শব্দ শুনে মনে করছেন গরুই তো হাঁটছে!
কিছুক্ষণ পর পেছনে তাকিয়ে দেখেন গরুর জায়গায় একটা পুচকে ছাগল হেঁটে আসছে, যার গলায় তাঁর গরুর ঘণ্টি বাঁধা!
হাবুল মিয়া চোখ চড়কগাছ করে ছাগলকে চেপে ধরলেন, “আরে! তুই আমার এত বড় ধলা গরুটাকে গিলে ফেললি? এত বড় পেট তোর?”
তিনি ভয়ে চিৎকার করতে করতে গ্রামে ফিরে এলেন। গ্রামবাসী এসে জিজ্ঞেস করল, “কী হইছে হাবুল ভাই?”
হাবুল মিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, “সর্বনাশ হয়ে গেছে! বাবলুর ছাগলটা জ্যান্ত আমার লাল গরুটাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে! প্রমাণ হিসেবে গরুর ঘণ্টিটা এখনো ওই ছাগলের গলায় ঝুলছে!”
পুরো গ্রামের মানুষ তখন হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াচ্ছে, আর হাবুল মিয়া রাগে ফুঁসছেন, “তোমরা হাসছ? ছাগলটা কিন্তু এরপর মানুষ খাওয়া শুরু করবে!”
