এক গ্রামে ছিলেন এক মারাত্মক কিপটে লোক—তাঁর নাম জবান আলী। কিপটেমির জন্য তাঁর নাম চার গ্রামে বিখ্যাত। চা খেলে শুধু কাপের কিনারায় চুমুক দিতেন, পাছে চা শেষ হয়ে যায়!
একদিন জবান আলী জঙ্গল দিয়ে বাড়ি ফিরছেন, হঠাৎ এক ডাকাত দলের মুখে পড়লেন।
ডাকাত সরদার তলোয়ার উঁচিয়ে বলল, “যা আছে বের কর! টাকা দিবি, নাকি জীবন দিবি?”
জবান আলী একটুও না ঘাবড়ে পকেট থেকে ২ টাকার একটা নোট বের করে সরদারের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “ভাই, টাকা তো একটাই আছে। জীবন দিলে ২ টাকা ফেরত দিতে পারবেন?”
ডাকাত সরদার চোখ ছানাবড়া করে বলল, “আমরা ডাকাত! চাঁদা আদায় করি, চেঞ্জ ফেরত দিই না!”
জবান আলী এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, “তাহলে ভাই আপনি আগে আমার ১ টাকা মেরে দিন, তারপর ০.৫০ টাকা কমিশন রেখে ৫০ পয়সা ফেরত দেন। আজ সারা দিন কিছু খাইনি…”
কথা শুনে ডাকাত সরদার তলোয়ার ফেলে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। সরদার ডাকাত দলের বাকিদের ডেকে বলল, “ওরে, ওরে তোরা কে কোথায় আছিস দে! এই লোকটাকে আমাদের হুজুর হিসেবে কবুল কর! এই যুগে এত্ত বড় ডাকাত আমি জীবনে দেখি নাই!”
বাকি ডাকাতরা তখন চাঁদা তুলে উল্টো জবান আলীকে ৫০০ টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে পায়ে ধরে বলল, “ওস্তাদ, আমাদের মাফ করে দেন! ভুল করে আপনার রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। এবার আমাদের ছেড়ে দিন!”
জবান আলী ৫০০ টাকা পকেটে ভরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “হুম, ব্যবসা আজ তেমন জমল না। ডাকাত দলের বাজেট খুবই কম!”
